হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমুলি তাঁর এক বক্তব্যে ‘জনগণের সচেতনতা: ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষার প্রথম প্রতিরক্ষা’ শীর্ষক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
জনগণ যখন অসচেতন ও উদাসীন হয়ে পড়ে, তখন শত্রুরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর জনগণের সচেতনতাই তাদের বিপ্লব ও ঈমানের অজেয় দুর্গ।
আয়াতুল্লাহ আল-উজমা জাওয়াদি আমুলির বক্তব্য
“জনগণের সচেতনতা ইসলামী বিপ্লবের অর্জনসমূহ সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ। কারণ, জনগণের অসচেতনতা ও উদাসীনতা বিদেশি শক্তির আগ্রাসনের সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রতিটি জাতির সচেতনতার মাত্রার ওপরই নির্ভর করে তাদের জাগ্রত অবস্থা। জনগণ যত বেশি সচেতন হবে, ধর্মবিরোধী আগ্রাসীদের মোকাবিলায় তারা তত বেশি সফল হবে।
পবিত্র কোরআনে ধর্মের শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
১. ধর্মের শত্রুরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে: ইহুদিবাদী ও ইসরায়েলপন্থী শক্তিগুলো সব সময় নতুন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
لَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَىٰ خَائِنَةٍ مِنْهُمْ
অর্থ: ‘তুমি তাদের অনেকের মধ্যেই বিশ্বাসঘাতকতার প্রবণতা দেখতে পাবে।’
২. তাদের ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক, সামরিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ অর্জন নয়; মুসলমানদের ইসলাম থেকে বিচ্যুত করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য: এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا
অর্থ: ‘তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকবে, যতক্ষণ না তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে।’
৩. তাদের লক্ষ্য শুধু মুসলমানদের ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়; বরং নিজেদের মতাদর্শের অনুসারী করে তোলাও তাদের উদ্দেশ্য: নাস্তিকতা, শিরক কিংবা কুফরের বিভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীরা শুধু মুসলমানদের ইসলাম থেকে বিচ্যুত করেই সন্তুষ্ট হতে চায় না; বরং তারা মুসলমানদের নিজেদের মতাদর্শের অনুসারী ও অনুগত করে তুলতে চায়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
وَلَنْ تَرْضَىٰ عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ
অর্থ: ‘ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কখনোই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মমতের অনুসরণ করো।’
৪. নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা গুপ্তচর ও অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা নেয়: তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা এমন ব্যক্তিদের ব্যবহার করে, যারা মুসলিম সমাজের ভেতরে থেকে তাদের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করে ও কাজ করে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ
অর্থ: ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যারা তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে।’
সূত্র: বেলায়াতে ফকিহ, পৃষ্ঠা ৩১৯–৩২০।
আপনার কমেন্ট